Thursday, November 11, 2021

ছোট-বড় চুলের যত্ন

যত্ন

 

 

সঠিক যত্ন আপনার চুলকে করে তুলতে পারে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল আর আপনাকে আরও রূপবতী। এখনকার আবহাওয়া এবং সাথে বাইরের ধুলাবালি চুলের সবচেয়ে বড় শত্রু। সেক্ষেত্রে চুলের বন্ধু হতে নারিকেল তেলের বিকল্প নেই। সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন রাতে ঘুমাবার আগে নারিকেল তেল হালকা গরম করে সারা চুল আর স্ক্লাপে ম্যাসাজ করতে হবে। এর পরদিন শ্যাম্পু করে নিতে হতে। এতে করে আপনি পাবেন মজবুত আর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল। যাদের খুশকিজনিত সমস্যা আছে তারা এই নারিকেল তেলের সাথে দুই থেকে তিন ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। দেখবেন কিছুদিন এভাবে ব্যবহার করতে থাকলে আপনার চুল কেমন সুন্দর দেখাচ্ছে। 
 
সময় পেলে ড্রাই ম্যাসাজ করতে হবে। মনে রাখবেন ম্যাসাজটি করতে হবে হালকা হাতে অন্তত দশ মিনিট। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটবে খুব দ্রুত। 

আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করে থাকি। এটি চুলের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু করলে শ্যাম্পুর ক্ষার চুল ক্ষয় বৃদ্ধি করে। এর পরিবর্তে ঘরে তৈরি করা যেতে পারে চুলের জন্য উপযোগী শ্যাম্পু। সেই ক্ষেত্রে এক টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে এক কাপ পানি মিশিয়ে চুলে ম্যাসাজ করতে হবে। দুই মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে সম্পূর্ণ চুল। এতে আপনার চুল আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
 
শ্যাম্পু করার পর চুলের কোমলতা বৃদ্ধি করতে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে ঘরে বসেও তৈরি করতে পারেন কন্ডিশনার। এক টেবিল চামচ ভিনেগার সাথে এক কাপ পানি মিশিয়ে তা চুলে মাখিয়ে রাখুন পাঁচ মিনিট। এর পরে ধুয়ে ফেললেই। এতে আপনি পাবেন আপনার মনের মতো কোমল চুল।
 
এছাড়া সপ্তাহে একদিন অথবা দুই সপ্তাহে একদিন চুলের ট্রিটমেন্টের করতে পারি। এজন্য নারিকেল তেল প্রথমে চুলে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে এবং পরে একটি তোয়ালে নিয়ে তা গরম পানিতে ডুবিয়ে পানি চেপে ফেলে দিয়ে গরম ভাপটা চুলে দিতে হবে পনের থেকে বিশ মিনিট। তবে চুল যাতে সম্পূর্ণ তোয়ালে দিয়ে প্যাঁচানো থাকে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এরপর দিতে হবে প্রোটিন প্যাক। এর জন্য একটি ডিমে ভিটামিন ই ক্যাপ একটি মিশিয়ে তাতে দুই থেক তিন টেবিল চামচ কন্ডিশনার মিলিয়ে ব্লেড করতে হবে। এটি সম্পূর্ণ চুলে লাগাতে হবে একটি ব্রাশের সাহায্যে। ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট রাখার পর সম্পূর্ণ চুল শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এতে চুল হবে মজবুত আর করবে ঝলমল।
 
চুলের যত্নের ক্ষেত্রে আরেকটি উপাদান হচ্ছে অ্যালোভেরা জেল। বাজারে হাতের নাগালেই পাবেন এই অ্যালোভেরা জেল। আর না পাওয়া গেলে সেই ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল সংরক্ষণ করে তাতে মধু মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। এটি চুল গজাতে এবং মজবুত করতে সাহায্য করে। 
 
তবে এসব কিছু ছাড়াও চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যাটি যেন যেতেই চায় না। তাদের জন্য অরগান ওয়েল খুব কার্যকরি। এটি ব্যবহার করতে হালকা দুই থেকে তিন চামচ গরম নারিকেল তেলে দুই থেকে তিন ফোঁটা অরগ্যান ওয়েল নিতে হবে। অবশ্যই রাতে ঘুমানোর আগে এটি চুলে লাগাতে হবে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার। সকালে উঠে শ্যাম্পু ভালোভাবে করে নিতে হবে। যাতে চুলে কোনো তেল লেগে না থাকে। 
 
অনেকেই চুলে রঙ করে থাকেন এবং কিছুদিন পরে এই হাইলাইট কিংবা কালারের জন্য চুল পড়ে যায় বলে ধারণা করি। সেক্ষেত্রে কালার প্রোটেক্টর শ্যাম্পু অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। আর অবশ্যই চুলে কালার করার দুই দিন পর শ্যাম্পু করতে হবে। অন্যদিকে যাদের চুল বেশি রুক্ষ তারা মাসে একবার পার্লারে প্রো-ক্যারোটিন ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। এটি চুলকে প্রাণবন্ত, ঝলমলে এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। 
 

 

No comments:

Post a Comment